বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র; প্রগতির চেতনায় আলোকিত বিদ্যাপীঠ।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র; প্রগতির চেতনায় আলোকিত বিদ্যাপীঠ।

রাজন দত্ত মজুমদার
১.
সমুদ্র ঢেউ আছড়ে পড়ছে তীরে। কাদা মাটি নোনা জল। বেরিবাঁধের দু’দিকে লবণ ঘের। চৈত্রের খাঁ খাঁ রোদ্দুর। বাতাসের ঝাপটা হেঁটে যাওয়ার ক্লান্তি দূর হয় পথিকের। হেঁটে যাচ্ছে একদল উচ্ছল বালক-বালিকা। মাদ্রাসায় ছুটির ঘণ্টা বেজেছে। এবার বাড়ি ফেরার পালা। পড়–য়াদের দিকে তাকালে চোখে পড়বে তাদের হাতে প্লাস্টিকের কাভারে মোড়ানো রবীন্দ্রনাথ, নজরুল অথবা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। কুতুবদিয়া দ্বীপ; এ দুর্গম অঞ্চলেও তারা এমন বইয়ে স্বপ্ন বুনছে আগামীর।
২.
দুর্গম পাহাড়ি পথ। ঘন জঙ্গল; পাহাড় চূঁড়া থেকে স্বচ্ছ জলের ধারা নেমে গেছে। আমরা হেঁটে চলেছি; সেই ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে। এখন বেলা বাড়ছে। হাঁটার ক্লান্তিও আছে। তাই সঙ্গী শিক্ষকের বিশ্রাম নেয়ার প্রস্তাব মেনে নিয়ে পাহাড়ের উপরে বাঁশের বেঞ্চে বসে জল পানে মগ্ন। ভাবনার কোটরে তখনও গন্তব্য আরো এক ঘণ্টার পায়ে হাঁটার পথ। রাঙ্গমাটির উত্তর মুবাছড়ি নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। হটাৎ যেন ঝকমক করে উঠল পাহাড় নীরবতা। পাখির ডাকের মত কোলাহল। উন্মুখ চোখ দৃশ্যে খুঁজে পায় একদল স্কুলগামী চাকমা বালক বালিকা। তাদের হাতে ঝলমল করছে মেরী শেলীর ফ্রাঙ্কেনস্টাইন অথবা লা-মিজারেবল।
৩.
স্বপ্ন ও আলোর গান বাজছে; কোমল সুরে। গাড়িটি ধীর গতিতে এগিয়ে চলেছে। সুনসান মগড়া পাড়ের ছোট্ট শহর। বই বোঝাই গাড়িটির গন্তব্য নেত্রকোনা সরকারি কলেজ গেইট। অপেক্ষায় একদল স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণী। যারা কংক্রিটের দেয়াল ছেড়ে বইয়ের অক্ষরে স্বপ্ন বুনছে; গাইছে আগামীর জয়গান। তারা সবাই ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির পাঠক।
৪.
এবার অন্যদিকে হাঁটবো। ঢাকা শহর। দেয়ালে আবদ্ধ নাগরিক জীবন। বাংলামটর মোড় হতে যান্ত্রিক রাজপথ পেরিয়ে শাহবাগগামী রাস্তার ডানদিকে একটি গলি। গলির ভিতরে কয়েক গজ এগিয়ে গেলেই নয়তলা বিশিষ্ট একটি ভবন। মিলনায়তন, বিক্রয় কেন্দ্র, লাইব্রেরি, চিত্রশালা, সংগ্রহশালা পার হয়ে দেখতে পাবেন ভবনের ছাদে বিকেলের লুকোচুরি রোদে অথবা সন্ধ্যার মিহি আলোয় জমে উঠেছে আগতদের চায়ের আড্ডা। বেশিরভাগই যুক্ত ভবনের সৃষ্টিশীল কাজে।
হ্যাঁ, এটি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। যা মেরুদন্ড সোজা করে যান্ত্রিক ও আত্মকেন্দ্রিক জীবনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে স্বগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে। দাঁড়িয়ে আছে আলোকিত মানুষের স্বপ্নদ্রষ্টা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের নিষ্ঠায়,সততায়, ‘আলোকিত মানুষ চাই’ স্লোগানে, ‘মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়’ এমন দৃঢ় চেতনার উপর ভর করে। এই চেতনার মিছিলে এখন যুক্ত হয়েছে সেই কুতুবদিয়া দ্বীপের মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রী, পাহাড়ের আদিবাসী, মগড়া পাড়ের তরুণ-তরুণীরাসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলেরও লক্ষ বালক-বালিকা, তরুণ-তরুণী। তাদের হাতেও আজ পৌঁছে গেছে বিশ্বসাহিত্যের সৃষ্টিশীল ও মননশীল বই।
৫.
অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের প্রতিষ্ঠিত বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যাত্রা শুরু সেই ১৯৭৮ সালে। ক্ষয়িষ্ণু সমাজের বিপরীতে যাঁর স্বপ্ন ছিলো বই পড়ার মধ্য দিয়ে বদলে যাবে মানুষ; বদলাবে সমাজ। বর্তমানে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যার মধ্যে আছে- দেশভিত্তিক জাতীয় উৎকর্ষ কার্যক্রম, পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচি, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি, আলোর ইশকুল, পাঠচক্র, আলোর পাঠশালা ইত্যাদি। এখন প্রায় ২৫ লক্ষ ছাত্রছাত্রী বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বই পড়া সাথে যুক্ত। কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত আছে খোদ বাংলাদেশ সরকার। প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের প্রচেষ্টায় ও সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যুক্ত হয়েছে লাইব্রেরি ঘণ্টা, ছাত্রছাত্রীরা হচ্ছে লাইব্রেরিমুখী।
৬.
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র নানা চড়াই উতরাই পার হয়ে ৪০ বছর অতিক্রান্ত করছে। বই মানুষের মানুষ হয়ে উঠার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। রুচিশীল বই মানুষের ভেতেরর সুপ্ত মনুষ্যত্বকে জাগ্রত করে। চেতনাকে প্রখর করে; বৃদ্ধি করে সৃজনশীলতা। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র বাংলাদেশের বই পড়া আন্দোলনের প্রধানতম প্রতিষ্ঠান। ৪০ বছর ধরেই ঝাঁকুনি দিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার প্রতিষ্ঠানিক ধারার বাইরে মননশীল বই পড়তে, প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে লাইব্রেরি উন্নয়নে। যে আলোক শিখা জ্বালিয়েছিলেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার তার বিচ্ছুরণ দ্যুতিতে সমগ্র বাংলাদেশ আলোকিত হবে; আমরা পাবো জ্ঞান-বিজ্ঞানের সমৃদ্ধ নতুন প্রজন্ম। এটাই আমাদের বিশ্বাস।

লেখক ও বই পড়া আন্দোলনের কর্মী ।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র চল্লিশ বছরের পথচলা
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র চল্লিশ বছরের পথচলা
শুভ কিবরিয়া
স্মৃতির শ্যাওলাজমা দেড়তলা সাইজের দোতলা সেই বাড়িটা
স্মৃতির শ্যাওলাজমা দেড়তলা সাইজের দোতলা সেই বাড়িটা
লুৎফর রহমান রিটন
কেন্দ্রের চল্লিশ আর আমার এগারো
কেন্দ্রের চল্লিশ আর আমার এগারো
মোহাইমিনুল হক জয়
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র; প্রগতির চেতনায় আলোকিত বিদ্যাপীঠ।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র; প্রগতির চেতনায় আলোকিত বিদ্যাপীঠ।
রাজন দত্ত মজুমদার
জীবনের ভরকেন্দ্র : বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
জীবনের ভরকেন্দ্র : বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
আবদুল্লাহ আল মোহন
ধন্যবাদ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
ধন্যবাদ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
বিশ্ব বন্ধু বর্মন
পূর্তি উৎসব মানেই অনেক আনন্দ! অনেক ব্যস্ততা!!
পূর্তি উৎসব মানেই অনেক আনন্দ! অনেক ব্যস্ততা!!
মোঃ মনির হোসেন টিটো
অংশুকারাভানের এক যাত্রী
অংশুকারাভানের এক যাত্রী
নাদিয়া জেসমিন রহমান
 বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র , এক অনন্য বিদ্যায়তন
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র , এক অনন্য বিদ্যায়তন
মোঃ এনাম-উজ-জামান বিপুল
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বারান্দায়
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বারান্দায়
পিয়াস মজিদ
“Kendro”, The Centre
“Kendro”, The Centre
MD. MAHDIUL HAQUE
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সাথে আলো হয়ে মিশে আছে শত শত মানুষ
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সাথে আলো হয়ে মিশে আছে শত শত মানুষ
ইশরাক পারভীন খুশি
মনে পড়ে সেই স্কুল কলেজের প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীর মুখ
মনে পড়ে সেই স্কুল কলেজের প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীর মুখ
পথিক শহিদুল
কেন্দ্রে চল, নতুন বই দিবো
কেন্দ্রে চল, নতুন বই দিবো
আল আমিন