স্বপ্নের ফেরিওয়ালার গল্প

স্বপ্নের ফেরিওয়ালার গল্প

রুমানা মাহজাবীন
‘বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র’ শুধু একটি নাম বা একটি প্রতিষ্ঠান নয়। শত শত পাঠক, সংগঠক আর বই পড়ুয়ার মিলনমেলা এই কেন্দ্র। ২০১৮ সালে কেন্দ্রের ৪০ বছর পূর্ণ হল। এই সময়ে এসে কেন্দ্রকে ঘিরে আমার নানা স্মৃতি মনে পড়ছে । ১৯৮৯ সাল, ৯ম শ্রেণীতে পড়ি। বাংলা ক্লাসে আমাদের আপা একটি ঘোষনা দিলেন। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আমাদের ৩ টি বই দেবে এবং সেগুলো পড়ে তাদের কিছু প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে পারলেই মিলতে পারে পুরস্কার! ব্যস আর পায় কে! তখন তো স্কুলের বই ছাড়া সব বই-ই পারলে পড়ে ফেলি! দুটো বই এর কথা মনে আছে। হুমায়ুন আহমেদ এর শ্যমল ছায়া, আর একটা অনুবাদের বই জুল ভার্ন এর Around the world in Eighty Days. এই পাঠচক্রের মাধ্যমেই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটল। মাঝে মাঝেই বই আনা হয় পড়া হয়। মাঝে কিছুদিনের বিরতি ছিল স্কুল ফাইনাল কলেজ ইত্যাদির জন্য। এরপর কলেজ শেষে আমরা ক’জন আবৃত্তি সংগঠন ‘নাদ’ এর সঙ্গে যুক্ত হলাম।

‘নাদ’ এর প্রধান ম ম মোর্শেদ ভাই আমাদের নিয়ে গেলেন আবার সেই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে। সেখানে নানা আবৃত্তির অনুষ্ঠান দেখা গান শোনা হয়। নীচে ছোট্ট একটা জায়গায় বই থাকে, সেখান থেকে বই নিয়ে পড়া যায়। সেখানেই তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায় এর ‘কবি’ র সঙ্গে পরিচয় ঘটল! সে এক অন্যরকম ঘোর। নিতাইচরন যখন বলে “এই খেদ আমার মনে মনে।/ভালবেসে মিটল না আশ- কুলাল না এ জীবনে।/হায়, জীবন এত ছোট কেনে?/এ ভুবনে?” তখন এর মানে সেই বয়সে কি বুঝেছিলাম জানিনা তবে ভেতরে কেমন যেন একটা টান অনুভব করেছিলাম। উপলব্ধি হয়ত এখন করতে পারি কিছুটা । যাই হোক,এই সুবাদে আবার কেন্দ্রে যাওয়া আসা শুরু হল। তখন আমরা নীচতলার একটা ঘরে (ইসফেন্দিয়ার জাহেদ মিলনায়তন সম্ভবত) আবৃত্তির অনুষ্ঠান করেছি, অনুষ্ঠান দেখেছি। সেখানেই রবি শংকর মৈত্র দার সঙ্গে পরিচয় হয়,সেখানেই সুকান্তের "লেনিন ভেঙ্গেছে রুশে জনস্রোতে অন্যায়ের বাঁধ/ অন্যায়ের মুখোমুখি লেনিন প্রথম প্রতিবাদ" কবিতাটি অন্যরকমভাবে শুনেছিলাম কামরুল হাসান মঞ্জুর কন্ঠে। এরপর আবৃত্তির ভুত আর মাথা থেকে নামেনি। শেষপর্যন্ত ওয়াহিদ ভাই এর হাত ধরে কন্ঠশীলনে গিয়ে ঠেকলাম। মঞ্জু ভাই এর কবিতার পর থাকতো আব্দুল্লাহ আবু সাইদ স্যার এর কবিতা নিয়ে আলোচনা সেটা আরো যেন চুম্বকের মতো টানতো। এই টানেই আমরা ক’জন ৯৩-৯৪ তে রসচক্র তে যোগ দিয়েছিলাম। ওই ঘরেই নীচে কার্পেট এর উপর বসা হত। আব্দুল্লাহ আবু সাইদ স্যার একটু ওপরে একটা চেয়ারে বসতেন। ওখানেই স্যার এর কথা শুনেছি আর মুগ্ধ হয়েছি। তাজমহলের বর্ননা টা এখনো আমার কানে বাজে। আমার তখন মনে হয়েছিল এ জীবনে তাজমহল না দেখে মরলে জীবনই বৃথা! আমরা আড্ডা দিতাম বা কোন আলোচনায় বসা হত দোতলার ছাদে।

১৯৯৩ সালের ডিসেম্বর মাস। রূদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মানুষের মানচিত্র’ স্ক্রিপ্ট নিয়ে একটি প্রোডাকশনে কাজ শুরু করেছে আমাদের আবৃত্তি দল। নির্দেশনায় ছিলেন হাসান আরিফ ভাই। বেশ কিছুদিন আরিফ ভাই এর কড়া মহড়া শেষে কেন্দ্রের ওই মিলনায়তনে সন্ধ্যায় অনুষ্ঠান ছিল। তার আগে দু একবার ওখানে বসে মহড়া করলাম। দলে একমাত্র শওকত ভাই এর হাতেই তখন মিনোলটা এস এল আর ক্যামেরা দেখেছি। আমাদের সব ছবি তখন শওকত ভাই এর ওই ক্যামেরাতেই বন্দী হত। ছাড়া পেত অবশ্য অনেক পরে। নীচের ছবিটি উনার কাছ থেকেই পাওয়া। উনি এখন আমেরিকা প্রবাসী নাহলে আরো কিছু ছবি হয়ত পেতাম। একটা সুন্দর লেখাও পেতাম। উনি এখন নাগরিক নাট্যদলের সঙ্গে জড়িত। নীচের ছবিটি বিকেলের মহড়া শেষ করে দোতলার ছাদে বসে যখন কথা বলছিলাম, তখন তোলা। শওকত ভাই কার হাতে ক্যামেরা টা দিয়ে যেন বললেন, ‘ছবি তোল তো!’ ছবির একেবারে ডান দিকে ম ম মোর্শেদ ভাই, এরপর আমি, পাশে শওকত ভাই, এর পাশের জনের নাম মনে নেই, তার পাশে রুমু তার পাশের জনেরও নাম মনে পড়ছেনা।

অনেক বছর আমার কেন্দ্রে আসা হয়নি। পুরোনো বিল্ডিং ভেঙ্গে নতুন বিল্ডিং হল। এরপর কেমন যেন অচেনা লাগতো! কেন্দ্রের নানা চক্রে কাজ করেন আমাদের কন্ঠশীলনের মল্লিক ভাই। উনিও অনেকদিন ছাদে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন কিন্তু কেন যেন আসা হয়ে ওঠেনি। কয়েকমাস আগে কেন্দ্রের ফটোগ্রাফি বেসিক কোর্স হচ্ছে শুনলাম আমার ফটোগ্রাফার বন্ধুর কাছে। সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেলাম আবার আমার কেন্দ্রে নিয়মিত আসা হচ্ছে এই কোর্সের কারনে। প্রথমদিন এসেই ভীষণ নস্টালজিক হয়ে পড়েছিলাম। মনে মনে ভাবলাম, একবার যে এই কেন্দ্রের বন্ধনে জড়িয়েছে তার এই বন্ধন কেটে বেরিয়ে যাওয়ার সাধ্য নেই! তাইতো অনেকদিন পর হলেও আবার এসেছি বিশ্বসাহিত্য সংস্কৃতির এই মিলন মেলায়। আশা করছি ৮ ফেব্রুয়ারি পুরনো অনেকের সঙ্গে দেখা হবে।

বই, আমি এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
বই, আমি এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
মোঃ রেজওয়ান হোসেন মুরাদ
আলোর দিশারী বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রকে হাজারো সালাম
আলোর দিশারী বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রকে হাজারো সালাম
দেবজয় চক্রবর্তী
মনে পড়ে সেই স্কুল কলেজের প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীর মুখ
মনে পড়ে সেই স্কুল কলেজের প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীর মুখ
পথিক শহিদুল
আজ মনে পড়ে সেই সব স্মৃতিময় দিন, আমাদের কলেজ কর্মসূচি
আজ মনে পড়ে সেই সব স্মৃতিময় দিন, আমাদের কলেজ কর্মসূচি
রবিউল ইসলাম রবি
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র চল্লিশ বছরের পথচলা
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র চল্লিশ বছরের পথচলা
শুভ কিবরিয়া
জয় হোক আলো ঘরের, জয় হোক আলোকিত মানুষের
জয় হোক আলো ঘরের, জয় হোক আলোকিত মানুষের
শ্যামলী খান।
স্মৃতির শ্যাওলাজমা দেড়তলা সাইজের দোতলা সেই বাড়িটা
স্মৃতির শ্যাওলাজমা দেড়তলা সাইজের দোতলা সেই বাড়িটা
লুৎফর রহমান রিটন
কেন্দ্রের চল্লিশ আর আমার এগারো
কেন্দ্রের চল্লিশ আর আমার এগারো
মোহাইমিনুল হক জয়
অংশুকারাভানের এক যাত্রী
অংশুকারাভানের এক যাত্রী
নাদিয়া জেসমিন রহমান
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র; প্রগতির চেতনায় আলোকিত বিদ্যাপীঠ।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র; প্রগতির চেতনায় আলোকিত বিদ্যাপীঠ।
রাজন দত্ত মজুমদার
জীবনের ভরকেন্দ্র : বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
জীবনের ভরকেন্দ্র : বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
আবদুল্লাহ আল মোহন
 বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র , এক অনন্য বিদ্যায়তন
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র , এক অনন্য বিদ্যায়তন
মোঃ এনাম-উজ-জামান বিপুল
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বারান্দায়
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বারান্দায়
পিয়াস মজিদ
পূর্তি উৎসব মানেই অনেক আনন্দ! অনেক ব্যস্ততা!!
পূর্তি উৎসব মানেই অনেক আনন্দ! অনেক ব্যস্ততা!!
মোঃ মনির হোসেন টিটো