বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সাথে আলো হয়ে মিশে আছে শত শত মানুষ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সাথে আলো হয়ে মিশে আছে শত শত মানুষ

ইশরাক পারভীন খুশি
জানালার গ্রিল গলে সকালের নতুন মিষ্টি আলো যখন আমার চোখে মুখে পড়ল, তখন আমি উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষে পড়ি। তখনই প্রথম বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আলোকিত মানুষ চাই স্লোগানের মিষ্টি আলো আমার মনন ও মগজের দেয়ালে চিরধরে এসে পড়ার সুযোগ হলো। রক্ষণশীল ও তখনকার সময়ে গল্পের বইয়ের চেয়ে পাঠ্যপুস্তকে বেশি মনোযোগী হতে হবে এই রকম আদর্শ পরিবারের তিন গোয়েন্দা, মাসুদ রানা অথবা বুক সেলফের আনাচে-কানাচে লুকিয়ে থাকা পুরাতন দুই একটা দস্যু বনহুরের কপি পাঠ্যবইয়ের ভেতর লুকিয়ে পড়া, আমি একটা নতুন বইয়ের জন্য কতটা কাতর ছিলাম তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ঠিক সেই সময়ে একেবারে বাড়িতে কোনো অভিভাবকের মতামতকে প্রাধান্য দেবার বদলে লুকিয়ে লুকিয়ে সদস্য হয়ে গেলাম বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের কলেজ কর্মসূচিতে। শুক্রবার বন্ধের দিন কোনো জরুরি কাজ ছাড়া যেকোনো একটা বাহানা তৈরি করে শাখা নামক সংস্কৃতিক কেন্দ্রে যাওয়াটা আমার জন্য সহজ ছিল না। তবু যখন উপস্থিত হলাম তখন তা ছিল আমার জন্য এক বিস্ময়কর আনন্দের। আমাদের কলেজের শিক্ষক অলোক স্যার কর্মসূচিটি পরিচালনা করতেন। বিশ্বসাহিত্যের বাছাইকৃত অনুবাদ ও বাংলা সাহিত্যের মোট ষোলখানা বই পড়রার সুযোগ আমার জীবনে নতুন আলো হয়ে দেখা দিলো। এই ষোলটি বই যেন শত শত ডানা মেলে আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে গেল সীমাহীন আকাশে। তারচেয়েও মজার বিষয় ভালো লাগার অংশগুলো খাতায় লিখে রাখা যেন ছাইয়ের গাদা থেকে মনি-মুক্তা খুঁজে খুঁজে আমার গোপন সংগ্রহশালা ভরে ফেলছিলাম। আর তার চেয়েও মজার বিষয় এই ষোলখানা বই পড়া শেষে এক আশ্চর্য পরীক্ষা। বই নেই, মুখস্থ করা নেই, কিন্তু খাতা কলম নিয়ে বসে যাওয়া মূল্যায়ন পরীক্ষায়। মনে হয় না, আমার জীবনে আর কোনো পরীক্ষা এত আনন্দময় আর নিঃশঙ্কার ছিল। তারপর একদিন পুরস্কার হিসেবে পাওয়া আরও নতুন কতগুলি বই হাতে এসে গেল। প্রথম নতুন আলোর চমকে চোখের সামনে খুলে গেল এক ভিন্ন জগত।

একজন প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে প্রথম পা রাখলাম সদর দরজার বাইরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাণ্ডারে গিয়ে খুঁজতে লাগলাম আমার কৈশোরের প্রেমকে। এত এত আয়োজনের মধ্যে কোথাও পেলাম না তাকে। তৃষ্ণার্ত মন হাহাকার করতে লাগলো বিশ্বসাহিত্যের জন্যে। কোনো এক দুঃসাহসের রাতে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারকে চিঠি লিখে বসলাম মফস্বলের এক অজ্ঞ মেয়ে হয়েও। উত্তরের আশা আমি সেদিন করিনি। কিন্তু অমলের ডাকপিয়ন যেন সেই বিস্ময়কর চিঠি আমার ডাকঘরে পৌঁছে দিয়ে গেল একরাশ বিস্ময় আর খামে ভরা ঝলমলে স্বপ্ন পূরণের বার্তা নিয়ে।

দ্বিতীয় আরেকটি নতুন আলো আমার চোখে মুখে লাগল। সামনে প্রসারিত এক দরজা খুলে গেল ভালো লাগার কিছু করার অবারিত সুযোগ হয়ে। তারপরও আমার মতো অজ্ঞ মফস্বলের মেয়ের জন্য দেশ বিখ্যাত আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের মতো মানুষের সামনে দাঁড়ানোর ক্ষমতা আমার ছিলো না। বন্ধু মেহরাজ মতিন সনি সহজ করে দিলো। সাথী হলেন- আবদুস সালাম স্যার ও বিশজন সহযোগী বন্ধু। দ্বায়িত্ব নিল আমার স্বপ্ন পূরণের।

তারপর, সতের বছর বয়স হয়েছে আমাদের সেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বিসাকে শাখাপাঠ চক্রের। মজার বিষয় হল সেই আমি আমার অনার্স পড়া শেষে আমার এক দুর্যোগ সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে অল্প কিছু সময় কাজ করেছি। সে কাজ করবার সুযোগ আমাকে আরেকটি আলোর দিকে পা বাড়াতে সাহায্য করেছে। আমাকে কর্মসংস্থান করে দিয়ে বাইরের জগতে পথচলা শুরু করতে রাস্তা দেখিয়েছে। আমি আমার জীবনে এসব আলোর সন্ধান পেতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের কাছে সত্যিই কৃতজ্ঞ, কৃতজ্ঞ আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের কাছে। আমি বেশি দিন কেন্দ্রে কাজ করতে পারিনি, কাজ চলমান রাখতে চাইনি, সে গল্পটি ভিন্ন। তবে সেই কাজ করবার সময়টা আমার জীবনে জ্বলজ্বলে এক আলোকিত অধ্যায়।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র দূর থেকে দেখা, কাছ থেকে দেখা, বাইরে থেকে দেখা, ভেতর থেকে দেখা আমার কাছে সেই পুরাতন বিল্ডিংয়ের জৌলুস বা নয়তলা ভবনের আজকের অবয়ব যেন একটা স্বপ্নের চূঁড়া। যেখানে রত্ন ভাণ্ডার খুলে দেয়া হয়েছে জনসাধারণের জন্য বিনামূল্যে। যার যত খুশি নিয়ে যাও।

আমার কাছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র শুধু আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ নন, তাঁকে ঘিরে থাকা অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবী, বিশেষত মেসবাহ সুমন, অনন্ত উজ্জ্বল, কাজল ঘোষ, মনির হোসেন, নিপা আপা, আরো অনেকে। যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম, অসম্ভব ভালবাসা, নিদারুন আত্মত্যাগ গত চল্লিশ বছরে মিশে গেছে প্রতিটি ঘামের বিন্দুর সাথে। মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়’ সে বড় হওয়াতে মিশে যায় অলক্ষ্যে। থাকে কত কত প্রাণ কত কত মুহূর্ত।

ভালো লাগার, ভালোবাসার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, চোখ বন্ধ করলেই দেখতে পাই সেই ভাঙা ছাদে অন্য রকম আড্ডার আসর। যেন মধুপান করতে আসা মৌমাছির গুনঞ্জন।
এমনকি যিনি রোজ ছোট উঠানটি ঝাড় দিতেন, যিনি বিকেলে ছোলা মুড়ি বানিয়ে সামনে রাখতেন, রোদফাটা তৃষ্ণায় আম, জাম, কামরাঙার জুস একজন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠকের জন্য এনে দিতেন এরা সবাই যেন আলোতে ঝলমল করতো, এরা সবাই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের চল্লিশ বছর বয়সের সাথে আলো হয়ে মিশে একাকার।

ইশরাক পারভীন খুশি
কেন্দ্রের প্রাক্তন কর্মি এবং প্রাক্তন সমন্বয়কারী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পাঠচক্র
টেক্সাস, ই্‌উএসএ

জয় হোক আলো ঘরের, জয় হোক আলোকিত মানুষের
জয় হোক আলো ঘরের, জয় হোক আলোকিত মানুষের
শ্যামলী খান।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র চল্লিশ বছরের পথচলা
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র চল্লিশ বছরের পথচলা
শুভ কিবরিয়া
স্মৃতির শ্যাওলাজমা দেড়তলা সাইজের দোতলা সেই বাড়িটা
স্মৃতির শ্যাওলাজমা দেড়তলা সাইজের দোতলা সেই বাড়িটা
লুৎফর রহমান রিটন
কেন্দ্রের চল্লিশ আর আমার এগারো
কেন্দ্রের চল্লিশ আর আমার এগারো
মোহাইমিনুল হক জয়
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র; প্রগতির চেতনায় আলোকিত বিদ্যাপীঠ।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র; প্রগতির চেতনায় আলোকিত বিদ্যাপীঠ।
রাজন দত্ত মজুমদার
অংশুকারাভানের এক যাত্রী
অংশুকারাভানের এক যাত্রী
নাদিয়া জেসমিন রহমান
জীবনের ভরকেন্দ্র : বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
জীবনের ভরকেন্দ্র : বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
আবদুল্লাহ আল মোহন
 বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র , এক অনন্য বিদ্যায়তন
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র , এক অনন্য বিদ্যায়তন
মোঃ এনাম-উজ-জামান বিপুল
ধন্যবাদ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
ধন্যবাদ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
বিশ্ব বন্ধু বর্মন
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বারান্দায়
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বারান্দায়
পিয়াস মজিদ
পূর্তি উৎসব মানেই অনেক আনন্দ! অনেক ব্যস্ততা!!
পূর্তি উৎসব মানেই অনেক আনন্দ! অনেক ব্যস্ততা!!
মোঃ মনির হোসেন টিটো
“Kendro”, The Centre
“Kendro”, The Centre
MD. MAHDIUL HAQUE
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সাথে আলো হয়ে মিশে আছে শত শত মানুষ
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সাথে আলো হয়ে মিশে আছে শত শত মানুষ
ইশরাক পারভীন খুশি
জ্ঞান পিপাসু এক “গান” তাপসের গল্প
জ্ঞান পিপাসু এক “গান” তাপসের গল্প
মোখলেস হোসেন