জীবনের ভরকেন্দ্র : বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র

জীবনের ভরকেন্দ্র : বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র

আবদুল্লাহ আল মোহন
১.
আমার, আমাদের অনেকের জীবনে ‘উড়ে এসে জুড়ে বসা’ নয়, ‘ছড়িয়ে গিয়ে জড়িয়ে থাকা’ প্রাণের প্রাঙ্গণের স্মৃতিময় আবেগের নাম, আলোকিত মানুষ গড়ার দৃঢ়প্রত্যয়ী প্রতিষ্ঠানের নাম বিসাকে, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। আমাদের প্রিয় কেন্দ্র চল্লিশ বছর পূর্তি বিশেষ আয়োজনে উদযাপন করতে যাচ্ছে জেনে স্মৃতির পানে ফিরে না তাকিয়ে উপায় আছে আমার মতোন অভাজনেরও ? আমি আকুণ্ঠচিত্তে স্বীকার করি- আমার জীবনের সবচেয়ে সেরা সময় কাটিয়েছি জীবনের ভরকেন্দ্র হয়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানে, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রেই। সেই আপন প্রাঙ্গণে বিশ্বসংসারে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পরম স্বজনদের সাথে মহামিলন লগ্নে মনে পড়ছে কত সহস্র স্মৃতি। জানি, অতীতের ছেঁড়াপাতার জোড়াতালি দিয়ে ‘তব ভুবনের, তব ভবনে’র মনের বনে পরিভ্রমণে কোন ভিসা-পাসপোর্টের দরকার পড়ে না মোটেই। মনে পড়ে, সেই ১৯৮৯ সালের নভেম্বরে কলেজ কর্মসূচির পাঠচক্রের সদস্য হিসেবে মহাসমারোহে প্রবেশ করেছিলাম কেন্দ্র চত্ত্বরে, আজোও সেই বন্ধন কাটেনি, প্রীতির স্মৃতির সম্মোহনে অন্তরে বেজে চলেছে অবিরত মোহনবাঁশিটি। বিভিন্ন পাঠচক্র ছাড়িয়ে কেন্দ্রের কর্মী হিসেবে, বিসাকে প্রতিষ্ঠাতা, সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের সহকারী হিসেবে, স্যারের সাথে ‘সোনালি দরোজা’সহ নানা ধরণের টিভি অনুষ্ঠান নির্মাণ লগ্নে, আলোর ইশকুলের বিভিন্ন কাজের অক্ষয় অনুভূতিময় সময়গুলোকে ভুলি কী করে আমি ? কত কত মানুষের ভীড়ে হারিয়ে গিয়ে নিজেকে খোঁজার, আপন কণ্ঠস্বরের সুরকে বোঝার যাপিত সময়কে নিয়েই তো আজকের আমার আমি। সেই স্মৃতির মহুয়া বাগানের নিত্য সুরাপানে মাতাল বাউল এই একজন পিছন ফিরে দেখতে গিয়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মাঝে আসলে নিজেকেই খুঁজে পায়, আপন অস্তিত্বই প্রখর উত্তাপ ছড়ায়।

২.
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র সম্পর্কে একান্ত আপন ভাবনা, স্মৃতি নিয়ে লিখতে বসে আমি কেবল চল্লিশে পা দেওয়া এই প্রতিষ্ঠানের প্রায় ত্রিশ বছর আগের অতীতেই ফিরে যাই না, এখনো সেই স্মৃতির পরশে জেগেও আছি, থাকি- প্রবলভাবে অনুভবও করি। কত আনন্দ-মধুর-বেদনার ঘটনারই প্রত্যক্ষদর্শী হতে হয়েছে। পেয়েছি অজস্রজনের অকৃত্রিম ভালোবাসা, আদর, পরম স্নেহাশিষ। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের চার দশকের অভিযাত্রায় কোন তীর্থ খুঁজে ফিরি না, ভালোবাসার আলো জ্বালানো একান্ত আপন স্বজনদের পরম সান্নিধ্য সুখ উপভোগ করি। সময়ের আগেই অনন্তলোকে চলে যাওয়া ট্রাস্টি লুৎফর রহমান সরকার স্যার, জীবনরসিক কায়েস ভাই (মিজারুল কায়েস), বিপদের বন্ধু আনিস ভাইদের (নগর পিতা আনিসুল হক) স্মৃতি আমাকে ভীষণভাবে আলোড়িত করে, শোকাহত করে। বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি প্রয়াত কেন্দ্রস্বজনদের।

৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেমনটি বলেছিলেন, ‘ছাড়তে-ছাড়তে বাড়তে-বাড়তে মরতে-মরতে বাঁচতে-বাঁচতে আমি কেবলই হব।’ জীবনে জীবন যোগ করার প্রক্রিয়ায় সেই হয়ে ওঠারই ভরকেন্দ্রই হয়ে উঠেছিলো আমার কাছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। ফলে কেন্দ্রের সবুজ বাগান, আমতলা, ছাদ কিংবা চত্ত্বরের উন্মাতাল দিনগুলোতে রঙেন আগুন লাগা ফাগুন দিন ছিলো আমার, আমাদের, ‘কোন বলরামের’ চেলা না হয়ে ‘বাতাস ছুটেছে বনময় রে / ফুলের না জানি পরিচয় রে’। সায়ীদ স্যারের সহকারীর দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সারাদেশ চষে বেড়ানোর বিরল অভিজ্ঞতার কত সহস্র স্মৃতিই না জীবন্ত হয়ে মনের আকাশে রঙধনু-মেঘ-প্রজাপতি হয়ে উড়ে বেড়াচ্ছে, ঘুরপাক খাচ্ছে। রাতজাগা ট্রেনে চট্টগ্রাম ভ্রমণ থেকে নৌপথে বরিশাল হয়ে খুলনা, লক্কর-ঝক্কর লোকাল গাড়িতে যশোর, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, নাটোর-রাজশাহীর স্মৃতি আজো অম্লান। ভয়ংকর সিলেট যাত্রা, বগুড়ার দই খেয়ে রংপুর-নীলফামারীর সংগঠকদের প্রীতির স্মৃতি কিংবা প্রবল বৃষ্টিতে নওগাঁয় নাগর নদী তীরে দাঁড়িয়ে স্যারের মুখে শুনেছি, পাঠ নিয়েছি রবীন্দ্রনাথের ছিন্নপত্রের অর্ন্তগত চেতনার, ভাব সম্পদের সুরালোকে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছি। প্রয়াত সংগঠক জাহিদ আনোয়ার ভাইয়ের শহীদ পিতার স্মৃতির প্রদীপ জ্বালানো সন্ধ্যা, আজো তাই কেন্দ্রও আমাকে ছাড়েনি, আমিও কেন্দ্রকে না। আমরা কেবল পরস্পরকে প্রীতির বিনিসূতোয় ‘ছড়িয়ে গিয়ে জড়িয়ে’ আছি এবং সেটা গভীরভাবেই।

৪.
জীবনের মধ্যপথে এসে প্রগাঢ় ঘ্রাণ পাই এই ভরকেন্দ্রের। জীবনের নানা রকমের বিচিত্র সব অনুভূতি ও জিজ্ঞাসার সামনের নিজেকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে যে ভরকেন্দ্র, পরিশীলিত করেছে আত্মদর্শনকে, উপলব্ধ অন্তর্গত বয়ানকে স্পষ্টকরণে সহায়তা করেছে বলেই কেন্দ্রে যাপিত জীবনের গল্পগুলোর স্মৃতি জীবনানন্দে বাঁচার সঞ্জীবনী হয়ে ওঠে স্মৃতির ঘ্রাণ। ফলে কেন্দ্রের নৈকট্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। আর তাই সন্দেহ করার কোন কারণই নেই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বিভিন্ন আলোচনা, পাঠচক্র, অনুষ্ঠান আমাদের তৃতীয় নয়নকে সমৃদ্ধ করেছে, পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, সংলাপের দক্ষতাকে পরিশীলিত করেছে। ভেতরের শক্তিকে জাগিয়ে তুলেছে। জীবনের ঊষালগ্নে অস্বীকার করি কী করে এক অচেনা নতুন পৃথিবীর দ্বার খুলে দিয়েছিলো কেন্দ্রের কার্যক্রমগুলো। আমার আমাদের অনেকের ক্ষেত্রে যেমন, তেমনি আমাদের সাংস্কৃতিক জীবনেরও ভরকেন্দ্র হয়ে ওঠে বিসাকে।

৫.
আজো কেন্দ্রে গেলে ভবনের ইট-কাঠের মাঝে নস্টালজিক আমি বেদনার সুরে শুনতে পাই ‘ও মঞ্জুরী, ‘ও মঞ্জুরী, আমের মঞ্জুরী’। বিসাকে আমাকে নানারঙে রাঙিয়ে দিয়ে গেছে, আজো তার পরশখানি পাই, ‘তব ভুবনে, তব ভবনে’। আসে আত্মসমালোচনার কথাও, করণীয় অনেককিছু থেকে পলায়নের বেদনাও জাগে আপন মনেই, সুতীব্রভাবে। মনে কত প্রশ্ন জাগে আজ। কত কী যে করবার সাধ ছিলো, কত যে অজস্র স্বপ্ন ছিলো, তার কতটাই বা, কতটুকুই বা কী করতে পেরেছি জীবনে ? আর তখনই রুদ্ধশ্বাসে স্মরণে আসে- দলিত মানবতার ছবি গুয়ের্নিকা দেখে এক নাৎসি সেনাকর্মকর্তা শিল্পী পিকাসোকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘তুমি এটা বানিয়েছ’? উত্তরে পিকাসো বলেছিলেন, ‘না, আমি করিনি, তোমরাই এটা বানিয়েছ।’ কেন্দ্রে যাপিত জীবনে মানবিক মহান চিন্তার পরিচয় পেয়ে আমি, আমরা সামাজিক দায়ব্ধতার জায়গায় কতটুকু অবদান রাখতে পেরেছি ? আমাদের চারপাশের দৃশ্যমান নিত্য অনাচার, অমানবিকতা, ভাসমানতা, বসতিহীনতা আমাদেরই অবহেলায়, ব্যর্থতার সৃষ্টি নয় কী ? লোভী ও স্বার্থপর ‘আমরা’ নানাভাবে প্রকট বৈষম্যে প্লাবিত ‘তাদের’ সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষের মতোন জীবন যাপনের দাবি মেটাতে পারি নি, নিশ্চয়তা দিতে পারিনি যার যার অবস্থান থেকে। জীবনাদর্শ আর চিত্ত বিনোদন একাকার করে ফেলেছি। কেন্দ্রের মাধ্যমে নানাভাবে সমৃদ্ধতর হয়ে ওঠা সুবিধাপ্রাপ্ত আমরা মানবিক একটি বাসযোগ্য পৃথিবীর অঙ্গীকারের দায়বদ্ধতাকে আমরা মোটেই অস্বীকার করতে পারি না। ‘যা আমাদের ত্যাগের দিকে, তপস্যার দিকে নিয়ে যায়, তাকেই বলি মনুষ্যত্ব, মানুষের ধর্ম।’ এইরকমই এক ধর্মের কথা ভেবেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। কিন্তু কী ত্যাগ? কিসেরই বা তপস্যা? কতটুকুই বা পালন করতে পেরেছি সেই স্বধর্মের ? আর এমনতর নানান ভাবনায় ভীড় আত্মসমালোচনা, মনে লাগে কষ্টের হাড় কাঁপানো হাওয়া। বুদ্ধদেব বসুর ভাবনা মন ভবন- আমার ভুবন নড়ে ওঠে, রুদ্ধঘরে ‘আত্মরতি সম্মোহনে’ না কাটালেও একান্ত আত্মসমালোচনায় প্রিয় কবি শঙ্খ ঘোষের চরণ স্মরণে আসে-
‘‘...তুমি আমি লক্ষই করিনি
কার ছিল কতখানি দায়
আমরা সময় বুঝে ঝোপে ঝোপে সরে গেছি
শৃগালের মতো
আত্মপতনের বীজ লক্ষই করিনি।’’

৬.
প্রত্যেক মানুষেরই নিজস্ব এক ভরকেন্দ্র থাকে। যেখানে দাঁড়িয়ে তিনি নিজের জগৎ নির্মাণ করেন। অথবা সেখানে পা রেখেই তিনি নিজের বোধ-ভাষাকে অনন্ত নক্ষত্রবীথিতে ছড়িয়ে দেন। শিল্পী-সাহিত্যিক-লেখক তথা সৃজনশীল মানুষের তো ভরকেন্দ্র ভর করেই আপন মাঠে সফল ফসল ফলান। বড় মানুষেরা অনেক সময় এই ভরকেন্দ্রও প্রয়োজনে বদলে ফেলার ক্ষমতা রাখেন। আমাদের জীবন ও শিল্পভ্রমণের নানা পর্বে বড় ধরনের বাঁক ঘটাতে কেন্দ্রের মতোন ভরকেন্দ্রের ভূমিকা অনস্বীকার্য। স্মৃতির বাগানে ফূল কুড়োতে গিয়ে আমার নিজের ধারণা জন্মেছে- সব লেখকই আসলে স্মৃতিনির্ভর লেখক। স্মৃতি ছাড়া কোনো কিছুই হয় না। স্মৃতি, শ্রুতি এগুলি আমাদের সভ্যতার প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু হয়েছে। তারই লিখিত রূপে আমরা পরবর্তীতে পুরাণ এবং আরো অনেক কিছু পাই। আমাদের কল্পনাও স্মৃতিমূলক নয় কী ? গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ এ নিয়ে দারুণ একটা কথা বলেছেন- স্মৃতি হচ্ছে সর্বোত্তম রচনা এবং যা ঘটে সেইটেই শুধু স্মৃতি নয়, তাকে অতিক্রম করে অনেক কিছু রচনায় এসে যায় যেগুলো ঠিক ওই বাস্তব স্মৃতি নয়।

৭.
‘আলোকিত মানুষ চাই’ আন্দোলনের ভরকেন্দ্র বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। ফলে ছড়িয়ে গিয়েও জড়িয়ে আছি আমরা এই ভরকেন্দ্রকে কেন্দ্র করেই, সেই সত্য অস্বীকার করি কী করে আজ ? বাংলামোটরের গলিতে ১৪ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউি-এর কেন্দ্রে গেলেই সেটা বোঝা যেত। প্রবেশদ্বার ‘সুরঞ্জণা’ থেকে শুরু করে পুরো কেন্দ্রটি বহু বৃত্তে বিভক্ত। প্রত্যেকটি বৃত্তের নিজস্ব জীবন ছিলো। সেখানে যে কেউ গিয়ে একটি নতুন বৃত্ত তৈরি করতে পারে, সেটা চিন্তাচর্চার, ভাব-বিনিময়ের উদ্ধতপনায়, গভীর দার্শনিক কোন বইয়ের আলাপন ঋদ্ধতায় উত্তাপ ছড়ানোর ছন্দের মতোন নানান কর্মকান্ডের মাধ্যমে। তবে আমাদের এই কেন্দ্রে কোন রাজনৈতিক ভাবাদর্শ ছিলো না। সায়ীদ স্যার সেই চেষ্টাও করেননি কখনো, আমার কাছে তেমনটি ধরা পড়েনি। ফলে সকল বয়সের চিন্তাশক্তির জোরে জাগ্রত তরুণদের স্বত:স্ফূর্ত প্লাটফর্ম হয়ে উঠেছিলো বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। সেই নিরন্তর নিরলস চিন্তাচর্চায় ভরকেন্দ্র হয়ে ওঠে প্রতিষ্ঠানটি। কেন্দ্রে আগত মানুষদের বহুমাত্রিকতা বহু বৃত্তে বিভক্ত থাকলেও প্রত্যেকটি বৃত্তের নিজস্ব জীবন ছিলো বলেই টের পেতে কারো অসুবিধে হয়নি। আবার সেখানে যে কেউ গিয়ে একটি নতুন বৃত্ত তৈরি করতে পারতো নিজস্ব সৃজনীশক্তির প্রতাপে। ড. হুমায়ুন আজাদ থেকে আহমদ ছফা কেউই রেহাই পাননি আমাদের তীব্র আক্রমণ থেকে, ভালোবাসার আলোড়িত অত্যাচার থেকে। আমার মনে হয় কেন্দ্রের পাঠচক্রগুলো, স্যারের মুক্ত আলোচনার আসর, অনানুষ্ঠানিক আড্ডাগুলোই স্বাধীনভাবে আমাদের নবীনদের মনে সজীব চেতনার পুনর্জাগরণ ঘটিয়েছে, এটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য।

৮.
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র নানা কারণেই আমার জীবনের ভরকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। আমাকে ভর করে থাকা, ভূত নয়- ভাবনাতে ‘আছর’ করে থাকা জীবনাদর্শের কবিতাটি স্মরণ করতেই পারি। প্রিয় কবি, রাজনীতিবিদ সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের লেখা আমার সবচেয়ে প্রিয় কবিতা ‘লোকটা জানলই না’ । চেতনাবৃত্তের ভরকেন্দ্রকে গভীরভাবে ছুঁয়ে থাকা কবিতাটির পাঠই বলে দেবে এর শক্তির কথা, প্রচন্ড বাস্তবতার প্রবল ঢেউকে, প্রবণতাকে। কবি লিখেছেন-
‘বাঁ দিকের বুক পকেটটা সামলাতে সামলাতে
হায়! হায় ! লোকটার ইহকাল পরকাল গেল !
অথচ আর একটু নীচে হাত দিলেই
সে পেতো আলাদ্বীনের আশ্চর্য প্রদীপ,
তার হৃদয় !
লোকটা জানলোই না !
তার কড়ি গাছে কড়ি হল ।
লক্ষ্মী এল রণ-পায়ে
দেয়াল দিল পাহারা
ছোটলোক হাওয়া যেন ঢুকতে না পারে !
তারপর একদিন
গোগ্রাসে গিলতে গিলতে
দু’আঙ্গুলের ফাঁক দিয়ে-
কখন খসে পড়েছে তার জীবন-
লোকটা জানলই না !’

৯.
কবিতাটি যতবার পাঠ করি, অনুভব করি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আমার জীবনে ভরকেন্দ্র হয়ে ওঠে, তার হারানো সবুজ চত্ত্বর নিয়ে, সায়ীদ স্যারের পৌরহিত্যে সন্নাস্যের সহচরদের সাধুসঙ্গে, চিন্তা জগতের হিমালয়ের বরফ গলা জলে স্নাতক হয়ে। এভাবেই ভিন্নমুখী চিন্তার দ্বন্দ্বে-ছন্দে-আত্মসমালোচনায় চল্লিশে পা দেওয়া প্রিয় প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র নানা ভাবনার জাল বুনে আমার, আমাদের জীবনে ভরকেন্দ্র হয়ে ওঠে, থাকবেও এর প্রভাব-আমৃত্যু।

আবদুল্লাহ আল মোহন
সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
ভাসানটেক সরকারী কলেজ, ঢাকা
মোবাইল : ০১৭১২-০২২৬৭৩
৩১ জানুয়ারি, ২০১৯

জয় হোক আলো ঘরের, জয় হোক আলোকিত মানুষের
জয় হোক আলো ঘরের, জয় হোক আলোকিত মানুষের
শ্যামলী খান।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র চল্লিশ বছরের পথচলা
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র চল্লিশ বছরের পথচলা
শুভ কিবরিয়া
স্মৃতির শ্যাওলাজমা দেড়তলা সাইজের দোতলা সেই বাড়িটা
স্মৃতির শ্যাওলাজমা দেড়তলা সাইজের দোতলা সেই বাড়িটা
লুৎফর রহমান রিটন
কেন্দ্রের চল্লিশ আর আমার এগারো
কেন্দ্রের চল্লিশ আর আমার এগারো
মোহাইমিনুল হক জয়
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র; প্রগতির চেতনায় আলোকিত বিদ্যাপীঠ।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র; প্রগতির চেতনায় আলোকিত বিদ্যাপীঠ।
রাজন দত্ত মজুমদার
অংশুকারাভানের এক যাত্রী
অংশুকারাভানের এক যাত্রী
নাদিয়া জেসমিন রহমান
জীবনের ভরকেন্দ্র : বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
জীবনের ভরকেন্দ্র : বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
আবদুল্লাহ আল মোহন
 বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র , এক অনন্য বিদ্যায়তন
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র , এক অনন্য বিদ্যায়তন
মোঃ এনাম-উজ-জামান বিপুল
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বারান্দায়
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বারান্দায়
পিয়াস মজিদ
পূর্তি উৎসব মানেই অনেক আনন্দ! অনেক ব্যস্ততা!!
পূর্তি উৎসব মানেই অনেক আনন্দ! অনেক ব্যস্ততা!!
মোঃ মনির হোসেন টিটো
ধন্যবাদ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
ধন্যবাদ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
বিশ্ব বন্ধু বর্মন
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সাথে আলো হয়ে মিশে আছে শত শত মানুষ
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সাথে আলো হয়ে মিশে আছে শত শত মানুষ
ইশরাক পারভীন খুশি
জ্ঞান পিপাসু এক “গান” তাপসের গল্প
জ্ঞান পিপাসু এক “গান” তাপসের গল্প
মোখলেস হোসেন
“Kendro”, The Centre
“Kendro”, The Centre
MD. MAHDIUL HAQUE