যেখানে আমার ভালোবাসা থাকে

যেখানে আমার ভালোবাসা থাকে

নাফিস অলি
পাঠ্যপুস্তকের বাইরে আমার বই পড়ার শুরু ২০০৬ সালে বড় মামার পুরানো বইপত্রের মাঝে খুঁজে পাওয়া হুমায়ূন আহমেদের জল জোছনা দিয়ে। গ্রামে বেড়ে উঠেছি বলে সেসময় খুব বেশি ভালো বইয়ের খোঁজ পাইনি। তবে শুরু থেকেই বুঝতে পারতাম খুব, এর কোথাও একটা সুখ লুকিয়ে আছে। ২০০৯ সালে বাড়ি থেকে দূরে ঝালকাঠি শহরে চলে আসি। এখানে এসে আমি পুরোপুরি একা হয়ে পড়ি। বসে থাকি বাসন্ডা নদীর পাড়ে পানিতে পা ডুবিয়ে, মাঠে আমার বয়সী ছেলেদের ছোটাছুটি দেখি আর বাড়ির কথা মনে করি। আমাদের মাদ্রাসার সামনের পাকা রাস্তাটার পরেই বাসন্ডা নদীর শুরু। উঁচু পাড়। কালো চওড়া রাস্তাটার একপাশে মাদ্রাসার পাঁচিল অন্যপাশে বাসন্ডা। একদিন দুপুরবেলা, প্রচণ্ড রোদের মাঝে নদীর পাড়ে নারিকেল গাছের ছায়ায় একটা গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। কাঁচ দিয়ে ঘেরা গাড়িটার সামনে বড় হরফে লেখা, ‘আলোকিত মানুষ চাই’। ভেতরে থরে থরে সাজানো বই। গাড়ি আর বইয়ের ছায়া নদীর পানিতে। প্রথমে কিছুটা দ্বিধা নিয়ে দূরে থাকি। ‘আলোকিত মানুষ চাই’! নিশ্চয় এটা বড় মানুষদের জন্য হবে। আমার পরিচিত কয়েকজন যখন এগিয়ে গেল গাড়ির দিকে, তখন সাহস পেলাম। এগিয়ে গেলাম, পরিবারের সদস্য হলাম, নতুন একটা জীবন পেলাম।
২০০৯ সালের সেই দুপুরে এক নতুন পৃথিবীতে আমার নবজন্ম হলো। যে পৃথিবীতে একাকীত্বের মতো বিষাদ নেই, ঘৃণা নেই, আতঙ্ক নেই, নেই কোনো অন্ধকার। আলো আর আলো। সে এক অদ্ভুত অনুভূতি এই বেঁচে থাকার। আমার বিষণ্ণ বিকেলগুলো ঝলমলে রঙিন হয়ে উঠলো। একেক বিকেলে বেড়িয়ে পড়ি আঙ্কেল টমস কেবিন, হোয়াইট ফ্যাঙ, ড. জেকিল ও মি. হাইড, ফ্রাঙ্কেনস্টাইন, তিন গোয়েন্দা, টিনটিন, রবিনসন ক্রুসো কিংবা হ্যারি পটারের সাথে। ধীরে ধীরে পরিচয় ঘটে বিখ্যাত সব মানুষদের সাথে। কথা হয়, মার্ক টোয়েন, লিও টলস্টয়, আন্তন চেখভ, আলেক্সান্দর বেলায়েভ, ড্যানিয়েন ডিফো, রবার্ট লুই স্টিভেনসন, মপাসা, জ্যাক লন্ডন, স্যার হ্যাগার্ড, রবীন্দ্রনাথ, অবনীন্দ্রনাথ, নজরুল, শরৎসহ পৃথিবীখ্যাত মানুষদের সাথে। বাড়িতে গড়ে উঠে নূরজাহান মঞ্জিল পাঠাগার, পাঠক হয়ে উঠে আদরের ছোটভাই বোনসহ আশপাশের অনেকে। নিজের মতো একটা জগত তৈরি করে নেয়া এবং সেখানে বসবাস করা যে কতটা সুখের হয়, এর আগে আমার জানা ছিল না।
২০১২ সালে মাধ্যমিক শেষ করে বরিশালে সরকারী সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে ভর্ভি হই। তবে এবার আর একাকী নই আমি। স্বপ্নের গাড়ি খুঁজে পেতে দেরি হয় না। আমাকে শ্রেষ্ঠ একটা শৈশব উপহার দেয়ার জন্য আজ আমি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রকে ধন্যবাদ দিতে পারবো না। আমি কেবল জানি, আমায় গড়েছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, আমার যা কিছু সব বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের, ফলে আমিও হয়ে গেছি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের।
২০১৬ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলে এখানে আমার একটা পরিবারের প্রয়োজন হলো। ক্লাস শুরুর প্রথম মাসেই ইল্লিন মুরশিদ ভাইয়ের মাধ্যমে সন্ধান পেলাম বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের শাখা পাঠচক্রের। পরিচয় ঘটলো, আশিক ভাই, সবুজ ভাই, নাহিদ ভাইয়ের মতো সুন্দর মনের মানুষদের সাথে। এতদিনে আমার বইপড়ে গল্প বলার মানুষ খোঁজার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলো। পাঠচক্র ঠিক আমার কল্পনার মতো। এখানে আরাফাত শাহীন, রউফ, আশিক নূরুদ্দিন, বাকি বিল্লাহ, সজল, সাবিহা দোলা, আশাপুর মতো চমৎকার কিছু বন্ধু পেয়েছি। পেয়েছি রিদম, তুহিন, ইমন, তাহসিন, সালাউদ্দিনের মতো ছোটভাইদের। ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট পাঠচক্রের সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পেলাম। এবার মনে হলো, পাঠচক্রকে আরও একটু ভালোবাসার সুযোগ পেলাম। ততদিনে সোমবার বিকেল আর শহীদ মিনার প্রাঙ্গণের পাঠচক্র চত্বর হয়ে উঠেছে আমাদের প্রাণ। পুরানো ল্যাম্পোস্টে ঝোলানো ‘আলোকিত মানুষ চাই’ লেখা সাইনবোর্ড হয়ে উঠেছে আমার ভালোবাসা। প্রতিনিয়ত আলোর পথযাত্রী হতে নতুন সদস্য আসছে আর আমরা গড়ে তুলছি বৃহৎ একটি পরিবার।
আসছে ৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ৪০ বছর পূর্তি উৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শুভেচ্ছা আমার ভালোবাসার প্রতি। একটা সময়ের স্বপ্ন দেখি ভীষন, দেশের প্রতিটি শিশু থেকে প্রত্যেক বৃদ্ধ হবে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আলোয় আলোকিত, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ফিল্টারে পরিশোধিত। বইয়ের আলোয় সব মানুষগুলো সোনার মানুষ হয়ে উঠলেই পাবো কাঙ্ক্ষিত স্বদেশ।

নাফিস অলি
সমন্বয়কারী, শাখা পাঠচক্র, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

জীবনের ভরকেন্দ্র : বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
জীবনের ভরকেন্দ্র : বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
আবদুল্লাহ আল মোহন
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র চল্লিশ বছরের পথচলা
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র চল্লিশ বছরের পথচলা
শুভ কিবরিয়া
কেন্দ্রের চল্লিশ আর আমার এগারো
কেন্দ্রের চল্লিশ আর আমার এগারো
মোহাইমিনুল হক জয়
স্মৃতির শ্যাওলাজমা দেড়তলা সাইজের দোতলা সেই বাড়িটা
স্মৃতির শ্যাওলাজমা দেড়তলা সাইজের দোতলা সেই বাড়িটা
লুৎফর রহমান রিটন
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র; প্রগতির চেতনায় আলোকিত বিদ্যাপীঠ।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র; প্রগতির চেতনায় আলোকিত বিদ্যাপীঠ।
রাজন দত্ত মজুমদার
পূর্তি উৎসব মানেই অনেক আনন্দ! অনেক ব্যস্ততা!!
পূর্তি উৎসব মানেই অনেক আনন্দ! অনেক ব্যস্ততা!!
মোঃ মনির হোসেন টিটো
ধন্যবাদ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
ধন্যবাদ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
বিশ্ব বন্ধু বর্মন
 বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র , এক অনন্য বিদ্যায়তন
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র , এক অনন্য বিদ্যায়তন
মোঃ এনাম-উজ-জামান বিপুল
অংশুকারাভানের এক যাত্রী
অংশুকারাভানের এক যাত্রী
নাদিয়া জেসমিন রহমান
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বারান্দায়
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বারান্দায়
পিয়াস মজিদ
যেখানে আমার ভালোবাসা থাকে
যেখানে আমার ভালোবাসা থাকে
নাফিস অলি
মনে পড়ে সেই স্কুল কলেজের প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীর মুখ
মনে পড়ে সেই স্কুল কলেজের প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীর মুখ
পথিক শহিদুল
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সাথে আলো হয়ে মিশে আছে শত শত মানুষ
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সাথে আলো হয়ে মিশে আছে শত শত মানুষ
ইশরাক পারভীন খুশি
“Kendro”, The Centre
“Kendro”, The Centre
MD. MAHDIUL HAQUE