বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বারান্দায়

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বারান্দায়

পিয়াস মজিদ
মানুষের জীবনে নিয়তই নানান ঘটনা ঘটে। সময়ের প্রবহমানতায় অধিকাংশ ঘটনাই মানুষ ভুলে যায়। কিন্তু কিছু কিছু ঘটনা মানুষের মনে জাগরুক থাকে চিরদিন। মানুষ হিসেবে আমিও এর ব্যতিক্রম নই। অনেক ঘটনার মাঝে আমার জীবনেও মনে রাখার মতো একটি ঘটনা ঘটেছিল। আর তা হলো বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সাথে আমার সম্পৃক্ততা। ‘বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র’ নামটির সাথে আমার পরিচয় ঘটে কুমিল্লা জিলা স্কুলের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় অর্থাৎ ১৯৯৭ সালে। একদিন ক্লাস চলাকালীন সময়ে আবদুল্লাহ লোকমান ভাই এবং মনিরুল ইসলাম ভাইসহ আরও অনেকে এলেন আমাদের সবাইকে বই পড়ার বার্তা জানান দিতে। প্রথমে একটু আশ্চর্য হয়েছিলাম বৈকি। মাত্র দশ টাকার বিনিময়ে সারা বছর বই পড়ার সুযোগ, সেই সাথে বছর শেষে পুরস্কারপ্রাপ্তি! কার্ড কিনে ঝটপট বিসাকের সদস্য হয়ে গেলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য। প্রথম শুক্রবার বই আনার কথা বেমালুম ভুলে গিয়েছিলাম। পরদিন ক্লাসে গিয়ে দেখি বন্ধুরা ‘রবিনহুড’, ‘রহস্যের দ্বীপ’সহ নানান চোখ-ধাঁধানো বই নিয়ে এসেছে। পরের শুক্রবার আর ভুল করলাম না। ছোট ভাইকে নিয়ে কুমিল্লার শিল্পকলা একাডেমিতে গেলাম। আমার দেখাদেখি ছোট ভাইও সদস্য হয়ে গেল। প্রতি শুক্রবার মায়ের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আসার চেষ্টা করেছি। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আমার সামনে এক নতুন জগত এনে হাজির করল। দেশ-বিদেশের নানান ধরনের বই আমার চিন্তার একেকটি দুয়ার খুলে দিল। বই পড়ার পাশাপাশি পঠিত বই নিয়ে আমাদের সবার সাথে খোলামেলা আলোচনা করতেন- আশীস দা, জাভেদ ভাই, মনির ভাই, লোকমান ভাই, আজহার ভাই, হীরা আপা। এঁরা সবাই ছিলেন এক একজন আলোকিত মানুষ। এঁদের আলোর বিচ্ছুরণ আমাকেও আলোকিত করতে লাগলো- স্বভাবতই।
দেখতে দেখতে সময় এগিয়ে চলল। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র শিল্পকলা একাডেমি হতে স্থানান্তরিত হল কুমিল্লা টাউন হলের অপরিসর কামরায়। ‘এষণা’ নামের পত্রিকা বের হতে লাগলো কেন্দ্রের প্রকাশনা হিসেবে। ‘লাইব্রেরি কার্যক্রম’ চালু হল। শিল্প-সাহিত্য, ইতিহাস দর্শন ও বিজ্ঞানের আলোচনায় ঋদ্ধ ‘পাঠচক্র’ শুরু হল। কেন্দ্রের বিস্তৃতি ব্যাপক থেকে ব্যাপকতর হতে লাগলো। মাঝখানে মনির ভাই চলে গেলেন বিদেশে আর আশীসদা ঢাকায়। কেন্দ্রের পৌরহিত্যে আসলেন- জাভেদ ভাই। সময় শুধু বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রেই নয় আমার জীবনেও। পরিবর্তন আনলো। স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে আমি কলেজে উঠলাম। মাঝখানে কিছুদিন কেন্দ্র হতে বিচ্ছিন্ন ছিলাম ‘এস. এস. সি’ পরীক্ষার কল্যাণে। তারপর আমি নিয়মিত কেন্দ্রে আসতে চেষ্টা করেছি। এক শুক্রবার যদি কেন্দ্রে না আসতে পারতাম তাহলে নিজেকে কেমন যেন বিচ্ছিন্ন মনে হতো, অপরাধী মনে হতো। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতি আমার এই টান ছিল একান্তই প্রাণের। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এই প্রচন্ড রকম আত্মকেন্দ্রিক, অর্থগৃন্ধু, স্বার্থলোলুপ সমাজে বিসাকে-ই আমাকে ‘বিনিময়’ ছাড়া কিছু দিয়েছে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আমার মাঝে বোধ ও মননের জাগরণ ঘটিয়েছে। যে জাগরণ বাংলাদেশের অনেক শিশুকিশোরের মাঝেই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ছড়িয়েছে; ধন্যবাদ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র- আমার কিশোরবেলাকে তুমি ভরিয়ে তুলেছ বইয়ের অপার আলোয়।

পিয়াস মজিদ
কবি, কমকর্তা বাংলাএকাডেমি

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র চল্লিশ বছরের পথচলা
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র চল্লিশ বছরের পথচলা
শুভ কিবরিয়া
স্মৃতির শ্যাওলাজমা দেড়তলা সাইজের দোতলা সেই বাড়িটা
স্মৃতির শ্যাওলাজমা দেড়তলা সাইজের দোতলা সেই বাড়িটা
লুৎফর রহমান রিটন
কেন্দ্রের চল্লিশ আর আমার এগারো
কেন্দ্রের চল্লিশ আর আমার এগারো
মোহাইমিনুল হক জয়
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র; প্রগতির চেতনায় আলোকিত বিদ্যাপীঠ।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র; প্রগতির চেতনায় আলোকিত বিদ্যাপীঠ।
রাজন দত্ত মজুমদার
জীবনের ভরকেন্দ্র : বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
জীবনের ভরকেন্দ্র : বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
আবদুল্লাহ আল মোহন
ধন্যবাদ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
ধন্যবাদ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
বিশ্ব বন্ধু বর্মন
অংশুকারাভানের এক যাত্রী
অংশুকারাভানের এক যাত্রী
নাদিয়া জেসমিন রহমান
 বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র , এক অনন্য বিদ্যায়তন
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র , এক অনন্য বিদ্যায়তন
মোঃ এনাম-উজ-জামান বিপুল
পূর্তি উৎসব মানেই অনেক আনন্দ! অনেক ব্যস্ততা!!
পূর্তি উৎসব মানেই অনেক আনন্দ! অনেক ব্যস্ততা!!
মোঃ মনির হোসেন টিটো
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বারান্দায়
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বারান্দায়
পিয়াস মজিদ
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সাথে আলো হয়ে মিশে আছে শত শত মানুষ
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সাথে আলো হয়ে মিশে আছে শত শত মানুষ
ইশরাক পারভীন খুশি
“Kendro”, The Centre
“Kendro”, The Centre
MD. MAHDIUL HAQUE
জ্ঞান পিপাসু এক “গান” তাপসের গল্প
জ্ঞান পিপাসু এক “গান” তাপসের গল্প
মোখলেস হোসেন
কেন্দ্রে চল, নতুন বই দিবো
কেন্দ্রে চল, নতুন বই দিবো
আল আমিন