উৎসবে আনন্দে জয়তু বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র

উৎসবে আনন্দে জয়তু বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র

আবীর সরকার
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সাথে প্রথম পরিচয়ের কথা মনে করতে গেলে অনেক অতীতকে হাতড়ে বেড়াতে হয়। প্রথম এই নামটা শুনেছিলাম বোধহয় ২০০৮ সালে, তৃতীয় শ্রেণিতে থাকতে। বড় ভাই ষষ্ঠ শ্রেণির বইপড়া কর্মসূচিতে পুরস্কার পেয়েছিল। গোলাপি রঙের সেই কার্ডটার দুইটা ভাগ, অভিভাবকের অংশটা ছিল একহাতে আর এক হাত বাবার হাতে গুজে রমনায় গিয়েছিলাম সেদিন। রমনার বটমূলে বইয়ের পাহাড়। পাহাড়ের পর পাহাড়, তারপর পাহাড়, আবার পাহাড়। তার ফাঁকে ফাঁকে গণ্যমান্য মানুষ। আর তাদের দিকে মুখ ফিরে বসে আছে বিভিন্ন স্কুলের পুরস্কার বিজয়ীরা। কালো কালো মাথায় পুরো রমনা ছেয়ে গেছে। অবাক হয়ে দেখছিলাম। তবে সেই ছোটবেলায় সবচেয়ে বেশি অবাক করেছিল ফ্রি ম্যাগী নুডুলস আর নেসক্যাফে কফি, অগণিত, সবার জন্য। কেমনে কী!!
বই পড়ার অভ্যাস ছোট বেলা থেকেই। ষষ্ঠ শ্রেণিতে উঠে, আমিও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া শুরু করলাম। পুরস্কারও পেলাম। তবে কেন্দ্রের কেন্দ্রে(বাংলামটর) গিয়েছিলাম প্রথমবার সম্ভবত ২০১৩ সালে। স্কুলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারকে নিমন্ত্রণ দিতে। যেতে যেতে প্রায় সন্ধ্যা সাত টা বেজে গিয়েছিল। রিসপশনে স্যারের কথা জিজ্ঞেস করতেই বলল ছাদে যেতে। ছাদে?! ছাদ কি অফিসের জায়গা! না, ছাদে স্যারের অফিস ছিল না, তবে ছাদে তার থেকে আকর্ষণীয় কিছু ছিল৷সেদিন ছিল পূর্ণিমা উৎসব। পূর্ণিমার আলোয় আনন্দোৎসবের আসর বসেছিল৷স্যারকে আমার কাছে থাকা নিমন্ত্রণপত্র দিয়ে এসেছিলাম। সাথে নিয়ে এসেছিলাম একটা ইচ্ছা। কেন্দ্রের ছাদে মুক্ত আকাশের নিচে কোনো অনুষ্ঠান করা।
সে ইচ্ছা পূর্ণ হয়েছিল চার বছর পরে গিয়ে! এক বন্ধু বলেছিল কেন্দ্রের কলেজ কর্মসূচিতে যুক্ত হতে। কেন্দ্রে গিয়ে বই পড়া যাবে, নির্বাচিত কিছু বই। তো কষ্ট করে বাংলামটরে কেন যাবো, কলেজেই তো পড়া যায়, যেহেতু কলেজে কেন্দ্রের সংগঠক আছেই! বন্ধু বলল, কেন্দ্রে বই পড়ার পর সেই বইয়ের উপর আবার ক্লাসও নেয়া হয়৷হ্যাঁ, তাহলে জয়েন করা যেতে পারে। যাই হোক, যুক্ত হলাম কেন্দ্রের কলেজ কর্মসূচিতে। জানতে পারলাম আমরা ৩২ তম ব্যাচ, আমাদের আগে আরো ৩১টি ব্যাচ আছে! এবং প্রত্যেক ব্যাচের আলাদা আলাদা নাম আছে। আমাদেরও নামকরণ উৎসব হল, সেই নামকরণ করা হল বসন্ত উৎসবের দিন। বসন্ত উৎসব বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আমার স্মৃতির মুহুর্তগুলোর মধ্যে এক মহাকাল। সকালে বের হতাম, কলেজের পর সোজা ওয়েলকামে উঠে মতিঝিল থেকে বাংলামটর। সেখানে সারাদিন বসন্ত উৎসবের জন্য দেয়ালিকার কাজ, রাতে বাসায় ফেরা। একটু যে ক্লান্তি লাগতো না এমনটা নয়। তবে সেই ক্লান্তি কাজ করার আনন্দে ধুয়ে মুছে বিলীন হয়ে যেত।
বসন্ত উৎসবের দিন ঘনিয়ে আসছে, উৎসবের সমস্ত দায়িত্ব আমাদের ব্যাচের। উপস্থাপনাও করবে আমাদের মধ্যেই কেউ। ছোটবেলা থেকেই উপস্থাপনার প্রতি আলাদা আকর্ষণ ছিল আমার, উপস্থাপনার জন্য সুমন ভাইয়া, নওরীন আপুর কাছে অডিশন দিলাম এবং টেস্টে পাশও করলাম! বসন্ত উৎসবে উপস্থাপনাটা করা ছিল অন্যতম গৌরবোজ্জ্বল মুহুর্ত। সারাদিন হইহুল্লোড়, বিকালে কেন্দ্রের ছাদে অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান শুরু হল কেক কেটে নামকরণের মধ্যে দিয়ে, স্যার এসে আমাদের ব্যাচের আকিকার কাজটি সম্পন্ন করলেন, নাম রাখা হল "আলোকবর্তিকা"। আর এই অনুষ্ঠানেই আমার চার বছর আগের ইচ্ছাটা পূর্ণ হল!
কেন্দ্রে শুধু বসন্তই উদযাপিত হয় না, ঋতুভিত্তিক সব অনুষ্ঠানই হয়৷ বর্ষাকে বরণ করার জন্য আমরা করেছিলাম বর্ষামঙ্গল উৎসব। সিনিয়র ভাইয়া আপু, শুভানুধ্যায়ী আর আমাদের ব্যাচের বন্ধুরা মিলে একটি মনোমুগ্ধকর অনুষ্ঠান করেছিলাম। কিন্তু এই অনুষ্ঠানটি আর ছাদে করা সম্ভব হয়নি, বর্ষার বৃষ্টি শুরু হলে তখন মঙ্গলউৎসব চৌপাট হয়ে যেত!
শরত উৎসবের কথা মনে পড়ে। শরতের পেঁজা তুলোর মেঘের আকাশের নিচে বসে আমরা আগমনী সংগীত গেয়েছিলাম ঋতুর রাণীর। ঋতুর এই অনুষ্ঠান গুলোর ভিন্ন ভিন্ন উপলক্ষ্যে হলেও তাদের সবার মধ্যে একটি বিষয়ের মিল ছিল, ভুরিভোজন হয়েছিল সবগুলোতেই অসাধারণ!
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার একবার একটা অনুষ্ঠানের বলেছিলেন যে মানুষ সবচেয়ে সহজে এবং সবচেয়ে বেশি শিখতে পারে একটি সুস্থ আড্ডায়। একটি ভালো বই ভালো বন্ধুর সমান, একজন ভালো বন্ধু একটি লাইব্রেরির সমান। কেন্দ্রের যে বিষয়টা সবচেয়ে ভালো লাগে আমার, সেটি হচ্ছে বয়স নির্বিশেষে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করা। এখানে মানুষ বই পড়ে, গল্প করে, নিজে শিখে, অন্যকে শেখায়, মিলে এবং মেলায়। আর এই সুযোগটা সবচেয়ে ভালোভাবে আসে এই অনুষ্ঠান গুলোর মধ্য দিয়ে। ‘মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়’ তাই মানুষের স্বপ্ন আলোকিত হলে সেও আলোকিত হবে। আলোকিত মানুষ তৈরির স্বপ্নরথী আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার আর তার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। গত কয়েক বছরে জীবনের অন্যতম একটা অংশ দখল করে নিয়েছে প্রাণের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। সেই কেন্দ্রের ৪০ বছর পূর্তির আনন্দ উপলক্ষ্যে একটি কথাই বলার আছে, ‘জয়তু বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ’।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র চল্লিশ বছরের পথচলা
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র চল্লিশ বছরের পথচলা
শুভ কিবরিয়া
স্মৃতির শ্যাওলাজমা দেড়তলা সাইজের দোতলা সেই বাড়িটা
স্মৃতির শ্যাওলাজমা দেড়তলা সাইজের দোতলা সেই বাড়িটা
লুৎফর রহমান রিটন
কেন্দ্রের চল্লিশ আর আমার এগারো
কেন্দ্রের চল্লিশ আর আমার এগারো
মোহাইমিনুল হক জয়
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র; প্রগতির চেতনায় আলোকিত বিদ্যাপীঠ।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র; প্রগতির চেতনায় আলোকিত বিদ্যাপীঠ।
রাজন দত্ত মজুমদার
জীবনের ভরকেন্দ্র : বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
জীবনের ভরকেন্দ্র : বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
আবদুল্লাহ আল মোহন
অংশুকারাভানের এক যাত্রী
অংশুকারাভানের এক যাত্রী
নাদিয়া জেসমিন রহমান
 বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র , এক অনন্য বিদ্যায়তন
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র , এক অনন্য বিদ্যায়তন
মোঃ এনাম-উজ-জামান বিপুল
ধন্যবাদ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
ধন্যবাদ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
বিশ্ব বন্ধু বর্মন
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বারান্দায়
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বারান্দায়
পিয়াস মজিদ
পূর্তি উৎসব মানেই অনেক আনন্দ! অনেক ব্যস্ততা!!
পূর্তি উৎসব মানেই অনেক আনন্দ! অনেক ব্যস্ততা!!
মোঃ মনির হোসেন টিটো
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সাথে আলো হয়ে মিশে আছে শত শত মানুষ
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সাথে আলো হয়ে মিশে আছে শত শত মানুষ
ইশরাক পারভীন খুশি
“Kendro”, The Centre
“Kendro”, The Centre
MD. MAHDIUL HAQUE
জ্ঞান পিপাসু এক “গান” তাপসের গল্প
জ্ঞান পিপাসু এক “গান” তাপসের গল্প
মোখলেস হোসেন
কেন্দ্রে চল, নতুন বই দিবো
কেন্দ্রে চল, নতুন বই দিবো
আল আমিন